মুক্ত স্বদেশ লকডাউন ঘোষণার পরই বাজারে উপচেপড়া ভিড় | মুক্ত স্বদেশ

লকডাউন ঘোষণার পরই বাজারে উপচেপড়া ভিড়


মুক্ত স্বদেশ এপ্রিল ৩, ২০২১, ৭:০৭ অপরাহ্ন
লকডাউন ঘোষণার পরই বাজারে উপচেপড়া ভিড়

লকডাউন ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের জন্য ‘লকডাউন’ শুরু হবে—সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের পরই এমন দৃশ্যের অবতারণা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লকডাউনের রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আতঙ্কের কেনাকাটা বা প্যানিক বায়িং শুরু হয়ে গেছে। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে ভিড় করছে। কেউ কেউ একসঙ্গে বাড়তি পরিমাণ পণ্য কিনে ঘরে ফিরছেন। লকডাউন পরিস্থিতির বিবেচনা করে অনেক মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মজুদ শুরু করেছেন। নগরীর শপিংমলগুলোতেও লোকজনের প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। লকডাউনের খবরে ঈদের কেনাকাটাও সেরেছেন কেউ কেউ।

শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর অন্যতম বড় তিন বাজার মোহাম্মদপুরের টাউন হল, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজারে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য—চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ও আলু কিনছিলেন।

এদিকে শনিবার বেলা ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট কাচাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ কেউ সাতদিন কিংবা পনের দিনের জন্য পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ বাজারে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়াতে চাল, ডালসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্য পণ্যে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে বেশি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মো. হাবিব নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, ‘গত ঈদেও পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করা হয়নি। এবারও একই পরিস্থিতি হতে পারে। এ কারনে লকডাউন শুরুর খবরে টেরিবাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা সেরে ফেলি।

এদিকে নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজারেও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে দুপুর থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। রিয়াজুদ্দিন বাজারে অবস্থিত হাসান স্টোর নামে একটি নিত্যপণ্যের দোকানী মো. আরিফ জানান, ‘লকডাউনের খবরে দোকানে ক্রেতা বেড়েছে। হয়তো ক্রেতারা মনে করছেন এখন এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে লোকজন বাড়িতে মজুদ শুরু করেছে।’

শুধু নগরীতে নয়, একই পরিস্থিতি চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতেও। রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারের শাহাজাহান স্টোরের মালিক মো. শাহজাহান জানান, লকডাউনের ঘোষণা শোনে লোকজন দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ভিড় শুরু করে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।