মুক্ত স্বদেশ ‘আমরা দালাল নই, আমাদের সবই হালাল’ | মুক্ত স্বদেশ

‘আমরা দালাল নই, আমাদের সবই হালাল’


মুক্ত স্বদেশ এপ্রিল ২, ২০২১, ২:৫৪ পূর্বাহ্ন
‘আমরা দালাল নই, আমাদের সবই হালাল’

আমরা দালাল নই, আমাদের সবই হালাল’

আজকাল অনেকেই কথায় কথায় যত রাগ-ক্ষোভ সবই ঝারেন সাংবাদিকদের উপর। যেন ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ।’ আমি বলি সব দায়িত্ব সাংবাদিক নেবে কেন? সাংবাদিকদের বেতন সরকার দেয়, না পাবলিক দেয়? নিজের খেয়ে নিজের পড়ে কেন এত দায়িত্ব নেবে সাংবাদিক?

আপনি কি একবার ভেবে দেখেছেন, আপনি আপনার অবস্থানে কতটা সৎ, কতটা নির্ভিক? আয়নায় একবার নিজের চেহারাটা ভালোমত দেখে অন্যের সমালোচনা করুন। আপনি কি জানেন, একজন সংবাদকর্মীর জীবনের অপ্রকাশিত গল্প? কেমন তাদের জীবনধারা? আপনি কি জানেন, একজন সংবাদকর্মীকে কতটা বৈরাগী, কতটা যাযাবর হতে হয়? প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রিয়জনকে বঞ্চিত করে কতটা সময় মানবতার ত্বরে বিলিয়ে দিতে হয়?

জাতীয় পর্যায়ে হয়ত শতকরা ৪/৫ জন সাংবাদিক ভালো থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগ সাংবাদিককেই দূর্বিষহ জীবন-যাপন করতে হয়। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের রোজনামচার করুণ চিত্র কি কারো চোখে পড়ে?

জাতীয় গণমাধ্যমের একজন জেলা প্রতিনিধিকে কাজ করতে হয় ‘সীমান্ত রক্ষীর মত।’ অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় কাজ করতে হয় ২৪ ঘন্টা। কখনো কোন সংবাদ ‘মিছ’ হয়ে যায় কি-না এমন আতঙ্কে কাটে সারাক্ষণ। কখনো কখনো অর্ধেক খাবার টেবিলে রেখেই চলে যেতে হয় ‘অন স্পটে।’ গভীর রাতে ঘুমানোর সময়ও মাথার কাছে মোবাইলের রিংটোন রাখতে হয় সচল। দূর্ঘটনা কিংবা অগ্নিকান্ডের মতো দুঃসংবাদ মূহুর্তেই আরামের ঘুমকে করে দেয় হারাম।

একজন সংবাদকর্মীর জন্য বিড়ম্বনা আর যন্ত্রনা পোহাতে হয় মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদেরও। স্থানীয় পত্রিকার সংবাদকর্মীদের অবস্থা-তো আরো করুণ। তাদের ‘সূর্যাস্ত হয় ভোরে’ আর ‘সূর্যোদয় হয় সন্ধ্যায়।’

আমি আমার কথাই বলি। গত প্রায় ৪ হাজার রাতের ৪ শতাধিক রাত নির্বিঘ্নে ঘুমিয়েছি কি-না নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আপনি কি ভেবেছেন, কতবড় কলিজা হলে একজন সংবাদকর্মী হওয়া যায়?

আপনি যেখানে নিরাপদে নির্বিঘ্নে ব্যবসা কিংবা চাকুরী করে মাসে হাজার-হাজার কিংবা লাখ টাকা আয় করছেন, সেখানে একজন সংবাদকর্মীকে প্রতিমূহুর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ‘হাস্যকর সম্মানীতে’ দিনাতিপাত করতে হয়। এ কাজটা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব বিত্ত-বৈভবের প্রতি যাদের মোহ কম কিংবা যাদের ‘বুকের পাটা’ অনেক বড় হয়।

সব সময় সব সত্যের স্পষ্ট উচ্চারণ শুধু সাংবাদিককেই করতে হবে কেন? দেশ ও জাতির জন্য আপনার কি কোন দায়িত্ব নেই? আপনার কাছে কি একজন সাংবাদিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তার নিশ্চিত রক্ষাকবচ আছে? একজন সাংবাদিককে রাস্তায় যখন পেটানো হয়, তখন-তো আপনাকে দেখা যায় উৎসুক দর্শকের সারিতে।

আপনাকে মনে রাখতে হবে কাউকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানোর ঠিকাদারি সাংবাদিকের নয়। সাধ্যের ভেতরে সত্য উচ্চারণই সাংবাদিকের কাজ। সাহস করে সত্য উচ্চারনের দায় কি আপনার নেই? নিজের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন কেন? সুতরাং আমরা দালাল নই, আমাদের সবই হালাল।

লেখকঃ দিদার এলাহী সাজু

গণমাধ্যমকর্মী