মুক্ত স্বদেশ রেলমন্ত্রীদের আঞ্চলিকতায় সেচ্ছাচারিতার দিকে এগোচ্ছে রেল বিভাগ | মুক্ত স্বদেশ

রেলমন্ত্রীদের আঞ্চলিকতায় সেচ্ছাচারিতার দিকে এগোচ্ছে রেল বিভাগ


মুক্ত স্বদেশ মার্চ ২০, ২০২১, ৭:২১ অপরাহ্ন
রেলমন্ত্রীদের আঞ্চলিকতায় সেচ্ছাচারিতার দিকে এগোচ্ছে রেল বিভাগ

রেল মন্ত্রণালয়ের অনেকের মাঝে কানাঘুষায় শোনা যাচ্ছে পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া/বাংলাবান্ধা পর্যন্ত নতুন লাইন স্থাপন করা হবে। এই লাইন করে ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া হবে৷ যা দেশের সুষম উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।

আমার মতে, এখন আমাদের এই প্রজেক্ট কোন দরকার নেই। কারণ ইতমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হয়ে ভারত ট্রানজিট পাচ্ছে। তার উপর আগামী ২৬ মার্চ, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি রুট, সবেমাত্র চালু হবার অপেক্ষায়। সেখানে নতুন লাইন করে তেঁতুলিয়াকে সংযুক্ত করার কোন দরকার আপাতত নেই। সরকার এখন যেখানে ডুয়েল গেজ, আপাতত উৎসাহি নয়। সরকার চাইছে সমগ্র দেশে রেল যোগাযোগ ডাবল লাইনের আওতায় নিয়ে আসার। সেই সুবাদে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত লাইন ডাবল লাইনের আওতায় এটা নীলফামারীর আপামায় জনতার দীর্ঘদিনের দাবীর একটি।

২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কে পুনঃবিন্যাস করে, রেলকে আলাদা করে একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্টা করেন, নামকরণ করেন রেলমন্ত্রণালয়। এবং মন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ পান বাবু সুরুঞ্জিত সেন গুপ্ত। অল্প কদিনের মাথায় তার গাড়ীতে বিপুল টাকা থাকার অজুহাতে তিনি মন্ত্রী পদ হারান। দায়িত্ব দেওয়া হইয়াছে কুমিল্লা থেকে নির্বচিত মুজিবুল হকের উপর। ব্যাস আর কি?

তিনিই প্রথম শুরু করলেন সমগ্র দেশের রেল কে বঞ্চিত করে রেলের উন্নয়ন শুরু করলেন কুমিল্লা নোয়াখালী আর চট্টগ্রামে। দুই টার্ম তিনি এভাবেই আঞ্চলিক উন্নয়নের নিবেদিত থাকলেন।

গত ১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে, সরকার গঠন করলে, পঞ্চগর থেকে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য, জনাব নুরুল ইসলাম সুজনকে রেলমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। তিনিও তার পূর্বসুরী সাবেক রেলমন্ত্রীর পদাংক অনুসরণ করতে শুরু করলেন। রেলের উন্নয়ন মানেই এখন পঞ্চগর। রেলের যত রকমের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে হয়, সকল সুবিধা ভোগ রকছে এখন পঞ্চগর বাসী। এমনকি নীলফামারী জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকাগামী একমাত্র ট্রেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস এর আরামদায়ক কামরা খুলে, পঞ্চগর এর ট্রেনে যুক্ত করার মত কাজটিও করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন।

বিগত দিনে তিনি জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে ঘোষণা দিয়াছিলেন যেদিন, যেদিন ঢাকা –নীলফামারী– চিলাহাটি — শিলিগুড়ি রুটে ট্রেন চালু হবে, ঠিক একই দিন চিলাহাটি থেকে নীলসাগর বিদাকালীন আরো একটি ট্রেন চালু হবে। তেনার এই ঘোষণার কোন প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি না। যদিও আমাদের হাতে আছে আর মাত্র ৪ দিন। যাইহোক এমন মিথ্যা আশ্বাস আমাদের মোটেও দরকার ছিলনা।

আপনি যতই চেষ্টা করেন, আপনার ঢাকার যাতায়াতের পথ কিন্তু দুই এর বেশি,তিন হবেনা। সড়ক এবং রেল। ভুলে যাবেন না আমাদের কিন্তু ঢাকা যাওয়ার পথ আপনার চেয়ে একটি বেশি। সড়ক, রেল, আকাশ।

আমাদের সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার সেটা হল বগুড়া-সিরাজগঞ্জ কর্ড লাইন, আখাউড়া সিলেট ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন, নারায়নগঞ্জ-লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন।

কিছুদিন আগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম আমাদের কেন বুলেট ট্রেন লাগবে। কিন্ত কি করলে আমাদের বুলেট ট্রেন লাগবে না আজকের পোস্টে চলুন আলোচনা করি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে এখনো ব্রিটিশদের বানানো সিস্টেম ও আইন কানুন ধরে রেখেছে! ব্রিটিশরা যা শিখিয়ে গেছে আমরা তার উপর ভিত্তি করেই চলছি! নেই কোন ইনোভেশন, নেই কোন গবেষণা! সম্ভবত উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়েই একমাত্র রেলব্যবস্থা যার কোন রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট উইং নাই! এই জন্য আমাদের দেশের রেল প্রজেক্টে কাজ করে বিদেশী কোম্পানি! শুধু কাজ নয়। প্রজেক্ট এ গবেষণা থেকে শুরু করে ফিজিবিলিটি স্টাডি সকল কিছুই বিদেশী প্রতিষ্ঠান করে থাকে! যা একটি লজ্জার বিষয়।

আমাদের মত ব্রিটিশদের হাত ধরে ইন্ডিয়ান রেলওয়েও গড়ে উঠেছে। তাদের সিস্টেম ও আমাদের সিস্টেম একই ছিল। কিন্ত আজ তারা কতদুর এগিয়ে গেছে। অথচ আমরা এখনো পশ্চাৎপদ! ইন্ডিয়ান রেলওয়ে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান। অথচ আমাদের রেলের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অযুহাত লোকোবল সংকট!

আমাদের দেশে বুলেট ট্রেনের দরকার নেই। যদি রেলওয়ে তার কাজটা ঠিকমত করে। বিভিন্ন রেল প্রজেক্টে যে টাকা খরচ হচ্ছে সেই টাকা দিয়েই রেল অবকাঠামো পুরোপুরি পালটে দেওয়া যায়৷ যদি সদিচ্ছা থাকে। একই মুরগি ৩/৪ বারে জবাই করার মত আত্মঘাতী প্রকল্প থেকে রেল বের হয়ে আসতে পারলেই আর কিছু লাগবে না। কয়েকটা উদাহরণ দেই!

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া প্রজেক্টঃ উত্তরাঞ্চলের ৮ টি জেলার জন্য এই প্রজেক্ট এর গুরুত্ব বলে বোঝানো যাবে না৷ কিন্ত রেলওয়ে এই ব্যাপারে উদাসীন। কেন উদাসীন আমরা সবাই জানি। সে সম্পর্কে কথা না বলি। যমুনা নদীর উপরে নতুন ডাবল লাইনের ডেডিকেটেড রেল সেতু হয়ে যাচ্ছে। কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি যথা সময়েই শেষ হবে। পার্বতীপুর থেকে কাইনিয়া পর্যন্ত রললাইন ডাবল লাইনে রুপান্তরিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, ইতোমধ্যে একনেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়াছেন। এভাবে প্রতিটা অঞ্চল আলাদা আলাদা করে, সমগ্র দেশে রেল ডাবল লাইনে আওতায় আনায়নের চলছে সরকারের মহা পরিকল্পনার।

এখনই সুবর্ন সুযোগ এই সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগ এর কাজ শুরু করা৷ এই লাইনটি ডাবল লাইন করে সিরাজগঞ্জ থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত (পরবর্তীতে বুড়িমারী) করা গেলে। সেই সাথে পীরগাছা-রংপুর ডাবল লাইন সহ কর্ড লাইন করা গেলে রংপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব দাঁড়াবে ২৯১ কিলোমিটার৷ ভাবা যায়! যা বর্তমান রুট থেকে ১৫৫ কিলোমিটার কম!

দিনাজপুর-নীলফামারী-ঠাকুরগাও-পঞ্চগড় এই লাইনের ট্রেনগুলোর দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে বগুড়া থেকে জয়পুরহাট ২৮ কিলোমিটার একটি আলাদা ডাবল লাইন বিশিষ্ট কর্ড লাইন করা যেতে পারে। এতে উত্তরের ট্রেন সান্তাহার গিয়ে লোকো রিভার্স করে আবার বগুড়া যেতে হবে না। বা বর্তমান রুটের মত আব্দুলপুর-ঈশ্বরদী-লন্ডন-নিউইয়র্ক ঘুরে আবার সেই যমুনা সেতুতে মিলিত হয়ে ঢাকা যেতে হবে না।

লেখক: নুরুল আফছার নয়ন