মুক্ত স্বদেশ কীর্তিমানের মৃত্যু নেই | মুক্ত স্বদেশ

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই


মুক্ত স্বদেশ ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২১, ১:২৫ অপরাহ্ন
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

নাছরুল হুদাঃ- মানুষের মৃত্যু হয় কিন্তু শিক্ষকেরও কি মৃত্যু হয়? আমার মনে হয় না। ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু শিক্ষক বেঁচে থাকে তাঁর অগনীত ছাত্র-ছাত্রীদের মনের মাঝে, কর্মের মাঝে, কৃতিত্বের মাঝে, সফলতার মাঝে। শিক্ষক মানে মূলত জীবনের পথ প্রদর্শক, অন্ধকার পথের আলোকবর্তিকা। ঠিক সে অর্থেই স্যার ছিলেন অন্ধকারের আলোকবর্তিকাই। বলছি সদ্য প্রয়াত মোঃ আব্দুল হাকিম (বাচ্চু) স্যারে’র কথা।
কিছু মৃত্যু মানুষকে বাকরুদ্ধ করে দিতে পারে সহজেই। আজকে স্যারের মৃত্যুর খবর পেয়ে নিজেকে সামলে নিতে পারছিলাম না। কষ্ট হচ্ছিল খুব, কারণ অনেকের মত আমিও স্যারের খুব আদরের ছাত্র ছিলাম। কারন, তিনি আমার মায়ের স্কুল জীবনের শিক্ষক ও আমার মায়ের মামা ছিলেন। আর স্যারের সম্পর্ক ছিল খুব বেশি আপনার। তাই বড় কারণ ছিল আমাকে আদর করার-কান ধরে শাসন করার। কান ধরে ফাঁকিবাজটাকে বলতেন বাপের জন্য হলেও পড়াশুনাটা কর। গতকাল রাতে স্যার চলে গেলেন না ফেরার দেশে, আমার-নানা ভাই,আমাদের প্রিয় গুরু, প্রিয় শিক্ষক, প্রিয় অভিভাবক, কালীগঞ্জ সুকাতু প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘ দিনের অন্ধকারের আলোকবর্তিকা শিক্ষক মোঃ আব্দুল হাকিম (বাচ্চু)স্যার। আল্লাহ স্যারকে জান্নাতি করুন।
স্যারের বাড়ি ছিল কালীগঞ্জে। শিক্ষক ও সত্যিকারের এক জন অভিভাবক হিসেবে স্যারকে পেয়েছিলাম আমরা কালীগঞ্জ এস.পি উচ্চ বিদ্যালয়ে। আজ আমাদের মাঝে স্যার নেই। আছে, স্যারের স্মৃতি, স্যারের শাসন, স্যারের শিক্ষা।
আমরা জানি প্রত্যেক জীবনকেই মৃত্যুকে বরন করতে হবে। এবং মুত্যু চিরন্তন। তবে কিছু মৃত্যুর মৃত্যু হয় না, শুধু দেহটাই হয়তো আড়াল হয়। স্যারের মৃত্যুটাও শুধু দেহ থেকে প্রাণ ত্যাগ করেছে। কিন্তু তাঁর কর্ম, তাঁর শিক্ষা, তাঁর আদর্শ দেশে-বিদেশে, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পদে, বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে।