মুক্ত স্বদেশ কবির ভাষায় মধ্যবিত্ত পরিবার | মুক্ত স্বদেশ

কবির ভাষায় মধ্যবিত্ত পরিবার


মুক্ত স্বদেশ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০, ৯:৩৪ অপরাহ্ন
কবির ভাষায় মধ্যবিত্ত পরিবার

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের শখ আহ্লাদ বলতে কিছুই থাকে না। যা থাকে তা হলো সেক্রিফাইজ।আর যাই হোক এরা সবসময় নিজের চাওয়া পাওয়া বির্সজন দিতে জানে।
এরা নিজের শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফুটায়।

এদের চাওয়া পাওয়াগুলো খুব অল্প এরা খুব হিসেব করে চলে। এরজন্য হয়তো বন্ধুমহলে কিপটে বলে পরিচিত। কিন্তু বাহিরটা কেউ খু্ঁজ নেয় না।মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েরা ছোট থেকে সংগ্রাম করে চলে।তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে জানে।

এরা ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটে গিয়ে টাকা বাঁচায় যেন পরের বার বাবা মা কে টাকার কথা বলতে না হয়।ছোট ভাই বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের চাওয়াটা বিসর্জন দেয়। বন্ধুরা যখন ঈদে/পূজা দামি জামা কাপড়, জুতো পড়ে তখন এরা খুব অল্প বাজেটে নিজের জন্য জামা কাপড় কিনে।এদের চাহিদাও খুব সীমিত।

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েরা চাইলেও তাদের ভালোবাসার মানুষটাকে আগলে রাখতে পারে না।কারণ এরা জানে আমার জীবনে শুধু সংগ্রাম ছাড়া কিছুই নেই।এ জীবনে জড়ালে তোমাকে আমি সুখ দিতে পারবো না।যার কারণে অধিকাংশই ছেড়ে চলে যায় ভুল বুঝে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের জীবনে আপসোস নেই,দিনশেষে যা থাকে তা কেবলই দীর্ঘশ্বাস। এখানেই ক্ষ্যান্ত নয় । যদি এরা হয় বিবাহিত , তাহলে নিজের স্ত্রীর মন কখনও জয় করতে পারেনা । কারন তার স্ত্রীও চায় যে তার স্বামী এখন শুধু নিজের সংসার আর মাঝে মাঝে তার বাপের বাড়ীর দিকে একটু খেয়াল দিক। তখন বেচারাকে সবদিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় । একদিকে বাড়ীর সংসার, অন্যদিকে নিজের সংসার । যে কোন একদিকে কম নজর পরলেই, বেচারা তখন হয়ে যায় গো-বেচারা ।

নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে এরা যাদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য সদা ব্যস্ত থাকে, কোন ক্রিটিক্যাল সিচিয়েশনে যদি তাদের প্রতি কোনকিছু একটু কমতি পড়ে, তাহলে সকলেই তার সমালোচনায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠে । অতীতের কোন অবদান আর কারো মনে থাকেনা । অনেকেই তখন মুখ ফিরিয়ে নেয় । তারপরও বেচারার মনের কোন পরিবর্তন হয় না ।এর মধ্যেই মনের আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেস্টা করে। কারন সে জানে এটাই দুনিয়ার রীতি।