মুক্ত স্বদেশ জায়েদ খান থাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য দেখেই থাপ্পড় খেয়েছেন : ফারদিন - মুক্ত স্বদেশ

জায়েদ খান থাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য দেখেই থাপ্পড় খেয়েছেন : ফারদিন


মুক্ত স্বদেশ নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২২
জায়েদ খান থাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য দেখেই থাপ্পড় খেয়েছেন : ফারদিন

চিত্রনায়ক ওমর সানী ও মৌসুমী ইস্যু এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। ঘটনা ছিল ডিপজলের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে জায়েদ খানকে ওমর সানীর চড় কাণ্ডের পর জায়েদ খান পিস্তল বের করে গুলি করার হুমকি দেন ওমর সানীকে। গত ১০ জুন রাতে রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে ঘটনা ঘটার পরে এ নিয়ে চলে তর্ক-বিতর্ক।

জায়েদ খান ও ডিপজল বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু ওমর সানী তার চড় মারার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে। কিন্তু ঘটনা ঘটার তিন দিনের মাথায় ১৩ জুন দুপুর সাংবাদিকদের উদ্দেশে এক অডিওবার্তা দেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। এই অডিওবার্তায় সানির অভিযোগ অস্বীকার করে জায়েদের পক্ষে কথা বলেন। এরপর শুরু আবারও তোলপাড়। নেট দুনিয়া অডিওবার্তাটি ভাইরাল হয়েছে।

মৌসুমী বলেন, জায়েদ খান যথেষ্ট সম্মান করে আমাকে। আমাদের মধ্যে যতটুকু কাজের সম্পর্ক, সেটা খুবই ভালো একটা সম্পর্ক। সেখানে আমাকে অসম্মান করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ও অনেক ভালো ছেলে। সে কখনোই আমাকে অসম্মান করেনি।

স্ত্রীর এমন মন্তব্যে ওমর সানী ফেসবুক লাইভে জানান, ‘মৌসুমী আমার স্ত্রী, আমার সন্তানের মা। তাকে অসম্মান করে আমি একটি কথাও বলব না। সে কি মনে করে জায়েদ খানের পক্ষে কথা বলছে সেটা আমি জানি না। আমার গার্ডিয়ান হিসেবে আমার ছেলে ফারদিন এবং মেয়ে ফাইজা অবশ্যই আপনাদের সবকিছু ক্লিয়ার করবে। আমি চাই না, এই ২৭ বছরে এসে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি (পরিবারের মধ্যে) হোক। আমি আমার ছেলেমেয়ে, স্ত্রীকে নিয়েই থাকতে চাই।’

এরপর ঘটনা নতুন মোড় নেয়। ওমর সানী ও মৌসুমী দম্পতির ছেলে ফারদিন গণমাধ্যমে মুখ খোলেন। সেখানে তার মা (মৌসুমী) এর সঙ্গে বলা কথা শেয়ার করেন। ফারদিনের কাছে মা মৌসুমী স্বীকার করেন সংসার বিষয় নিয়ে মনমালিন্য হয়ে থাকে। ঘরের কথা পরে জানলে নিজেদেরেই ক্ষতি হবে।

তবে ঠিক কী কারণে তার মা (মৌসুমী) বাবার (ওমর সানী) বিপরীতে কথা বলেছেন, জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে ফারদিন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মা বলেছে, দেখ বাবা, আমি তো তখন রাগের মাথায় বলেছি। তোমার বাবার সঙ্গে একটু রাগারাগি হয়েছে। সেভাবেই বলেছি। আমি কিন্তু মিথ্যাচার করছে সানী, এটা সরাসরি বলিনি। যতটুকু বলেছি, আমি রাগের মাথায় বলেছি।’

ফারদিন আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে জায়েদ খানকে কিছুই মনে করি না আমি। আর ফ্যামিলির জন্য তো আরও কিছুই না। এখন কাউকে যদি ক্ষতি করতে চান, তাহলে তার ব্যবসাকে ঘাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন। জায়েদও তাই করেছেন। আমি ব্যবসা করি। সেখানেও ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন জায়েদ খান। তার তো কোনো সিনেমা নেই, কোনো কাজ নেই। কাজ না থাকলে যা হয়। আমরা সবাই ব্যস্ত থাকি। তার না আছে ক্যামেরার জীবন, না আছে অন্য জীবন। যার কিছুই থাকে না, তার টার্গেট থাকে যার কিছু থাকে তারটা নিয়ে সে নষ্ট হবে বা তারটা নিয়ে সে ভালো হবে। এটা ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানে। এফডিসির সবাই আমার পরিচিত। আঙ্কেল খালা মামা। আমি ইন্ডাস্ট্রির ভাগনে, ভাতিজা, ছেলে। তাদের কে বলতে হয় জায়েদ খান নিম্ন মানের মানুষ।’

জায়েদ খান প্রসঙ্গে ওমর সানী ও মৌসুমী পুত্র আরও বলেন, ‘আর আমি গত তিন চার মাস ধরেই বুঝে আসছি জায়েদ ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি আমাকে পুলিশকে দিয়ে ফোনও দিয়েছে। তাকে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই পছন্দ করেন না। তিনি (জায়েদ খান) থাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য দেখেই থাপ্পড় খেয়েছেন। আর আমার বাবা পাগল না। বুঝেই সেসব করেছেন। মায়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন তিনি। তাকে প্রপারলি শাস্তি দিয়েছেন আব্বা।’