শেরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা পেল সরকারি জমি ওঘর

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২১

পিতৃনিবাস থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি জায়গায় বঞ্ছনার শিকার হওয়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। তাদের জন্য জমি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে এজন্য হাঁস, মুরগী, সবজি ও মাছ চাষের মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতো কিছু পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ৬৯ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘আন্ধারিয়া তৃতীয় লিঙ্গ গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে তাদের বসতভিটা করে দেওয়া হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় গ্রামে করে দেওয়া হয়েছে তাদের জন্য বাড়ি।

ইতোমধ্যে ‘আন্ধারিয়া তৃতীয় লিঙ্গ গুচ্ছগ্রাম’ আওতায় ৪০ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। বাড়ি পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত। সবুজা নামে একজন বলেন, আমরা যেখানে নিজের পরিবারের কাছে ঘৃণিত সেখানে আমাদের পাশে সরকার দাঁড়াবে এটি কল্পনাও ভাবিনি। আমাদের নিজস্ব বাড়ি থাকবে, জমি থাকবে আমাগর জীবন আছে, কিন্তু আনন্দ নাই। মা-বাবা, ভাই-বোন থেকেও নাই। সংসার নাই, স্বপ্ন নাই, বন্ধু-বান্ধবও নাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় আমরা ঠিকানা পাইলাম। প্রধানমন্ত্রী আমগরে অনেক শান্তি দিলেন।

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব তুলে দিয়েছেন জমিসহ নতুন ঘরের চাবি, জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা, কাপড়, ডেকচি, থালা-গ্লাস-বাটি, চাল, ডাল, তেল, বিছানা, চৌকিসহ নানা উপকরণ।

তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষেরা যাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়াতে পারে তার জন্য চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়ে আধিকারিকরা জানান, ওই গুচ্ছগ্রামের ভেতর রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। হাঁস ও মাছ চাষের জন্য সেটির চারপাশ বাঁধাই করা হয়েছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য পাশেই আট একরের মরাসুতি বিল খননের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রস্তাবনা অনুমোদন মিললে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এই বিলে হাঁস ও মাছ চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞে যুক্ত হবেন।

জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, আমরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজের মূল স্রোতে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। এ লক্ষ্যে এর আগে তাদের সেলাই, হাঁস-মুরগি পালন, ড্রাইভিং শিক্ষা, ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।