ঢাকা মেডিকেলে আরও ৫ নারী দালালকে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২১

সকালে র‍্যাবের অভিযানে ২৪ দালাল গ্রেপ্তারের পর বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৫ নারী দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকালে পরিচালিত এ অভিযানে আটক দালালের ৫ জনই নারী। তাদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন – শাহনাজ আক্তার (৩১), তাসলিমা বেগম (৪০), তাসলিমা আক্তার (৩০), ইয়াসমিন আক্তার (৩০) ও সাথী আক্তার (৩০)। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাসপাতালের কর্মকর্তারা ৫ নারী দালালকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করবে বলেও জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দালাল মুক্ত করতে আমাদের এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। হাসপাতালের পরিবেশ কারো জন্য যেন ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে আমরা মনিটরিং করছি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২৪ দালালকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

দুপুরে অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিরীহ, দরিদ্র ও অসহায় যাদের বেশিরভাগ গ্রাম থেকে আসেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তাদেরকে টার্গেট করে আপনজনের মতো ব্যবহার করে কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার করিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখায়। অনেক সময় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যায় এসব দালালরা। আবার তারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরেও রোগীদের টার্গেট করে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষমান রোগীদের কাছে গিয়ে অল্প টাকায় ভাল অধ্যাপক দিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রলোভন দেখায়। অনেক সময় না বুঝে ফাঁদে পা দিয়ে তাদের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কম টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হয়ে ফেঁসে যান। নানা উসিলায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঢামেক হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এসব দালালরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে দ্রুত রিপোর্ট করিয়ে দেয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে থাকে। ঢামেক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও নার্স জানান, এ সব দালালদের কারণে ঠিকমতো কাজও করা যায় না।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা এ দালালচক্রের পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষক। দালালচক্রের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নিয়ে হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দেন তারা।

তবে অভিযানের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দালালদের সঙ্গে হাসপাতালের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযানকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ বলছেন, দালালচক্রের চুনোপুঁটিরা ধরা পড়েছে। এদের মূল পৃষ্ঠপোষক কেউ ধরা পড়েনি।