তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন

চেয়ারম্যান পদে জয়ী হলেন যারা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২১

সহিংসতার মধ্যে দিয়ে তৃতীয় ধাপে দেশের এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এই ধাপে ৩৩টি ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। ভোট গণনা শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফলে বেশিরভাগ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত রাজশাহীর ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে ১০টিতেই চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। বাকি তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

রোববার (২৮ নভেম্বর) জেলার পবা উপজেলার ৭টি এবং মোহনপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছে। সকাল ৮টায় এই দুই উপজেলার ১২৬টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। ভোট গণনা শেষে রাতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন অফিস।

পবা উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৪টিতে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এরা হলেন- হুজুরীপাড়ায় গোলাম মোস্তফা, দামকুড়ায় রফিকুল ইসলাম ও বড়গাছীতে শাহাদত হোসাইন সাগর। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হরিপুরে জয়লাভ করেছেন বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল।

এছাড়া দর্শনপাড়ায় শাহাদত হোসেন সাব্বির (আনারস), পারিলায় সাঈদ আলী মোরশেদ (ঘোড়া) এবং হড়গ্রাম ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ (অটোরিকশা) বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে সাব্বির ও মোরশেদ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। আর আবুল কালাম আজাদ জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

এদিকে মোহনপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের সবকটিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এরা হলেন- মৌগাছি ইউনিয়নে আল আমিন বিশ্বাস, ধুরইলে দেলোয়ার হোসেন, রায়ঘাটিতে বাবুল হোসেন, ঘাষিগ্রামে আজহারুল ইসলাম, বাকশিমইলে আব্দুল মান্নান ও জাহানাবাদ ইউনিয়নে হযরত আলী বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হন।

জয়পুরহাট

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ৫ ইউনিয়নে ৪ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে আরেক ইউনিয়ের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে পাঁচ ইউনিয়নের সবকটিতে আওয়ামী লীগের জয় হয়েছে এবং তারা সকলেই বর্তমান চেয়ারম্যান।

রোববার (২৮ নভেম্বর) রাতে কালাই উপজেলার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন- কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নে শওকত হাবিব তালুকদার (নৌকা), আহম্মেদাবাদে আলী আকবর মন্ডল (নৌকা), উদয়পুরে মো, ওয়াজেদ আলী (নৌকা) ও জিন্দারপুর ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান (নৌকা)। পুনট ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস ফকিরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে জাগীর ও গড়পাড়া ইউনিয়ন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন ও আফসার উদ্দিন সরকার। অন্য ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে দুটিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার (২৮ নভেম্বর) রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাহিদ হোসেন বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

চেয়ারম্যান পদে বিজয়ীরা হলেন- দিঘী ইউনিয়নে আখতার উদ্দিন আহমেদ রাজা (মোটরসাইকেল), নবগ্রামে গাজী হাসান আল মেহেদী সুহাস (নৌকা), পুটাইলে মহিদুর রহমান মহিদ (নৌকা), ভাড়ারিয়ায় আব্দুল জলিল (নৌকা), হাটিপাড়ায় গোলাম মনির হোসেন (নৌকা), কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে সেলিম হোসেন বিপ্লব (নৌকা), আটিগ্রামে নূর-এ-আলম সরকার (নৌকা) ও বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নে আসমত আলী (আনারস)।