নবীনগরে বদলে গেছে সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার মান

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১
নবীনগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

আমজাদ হোসেন,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমানের প্রচেষ্টায় বদলে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র। সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অভূতপূর্বভাবে বেড়ে গেছে হাসপাতালে সেবা গ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা। পূর্বে হাসপাতালে মাত্র ৬০-৭০ ভাগ বেডে রোগী ভর্তি থাকতো। যা বর্তমানে শতভাগের চেয়ে বেশি। পূর্বে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা ছিলো প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ এখন গড়ে চারশ’র অধিক। রোগীদের অপেক্ষার জন্য আলাদা ছাউনী তৈরি করা হয়েছে যেখানে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে করোনা টিকাদান কার্যক্রম চলছে। দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন হচ্ছে করোনার টীকাদান কার্যক্রম। রোগীরা যেনো সহজেই টিকা গ্রহণ করতে পারেন সেজন্য একাধিক বুথ স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত টিকাদানকর্মী নিয়োজিত আছেন।

করোনা রোগীদের সেবায় হাসপাতালে ৩ টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন এবং ৮১ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে যেখানে পূর্বে ছিল ২৫টি। এছাড়াও সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সুবিধা পাবার জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন, যেটি জাপানি সংস্থা জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।

গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদানের জন্য বহির্বিভাগে আলাদাভাবে ডাক্তার এবং নার্সসহ এনসি কর্ণার চালু করা হয়েছে। জরুরী রোগীদের নিরাপদ সিজার নিশ্চিত করতে এবং তাদের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষায় এনসি কর্নারে নতুন মোবাইল ফোন প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতালের বিশেষায়িত সেবা পূর্ণতা পেয়েছে। সিজার অপারেশনের জন্য চালু করা হয়েছে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং উন্নত পোস্ট অপারেটিভ রুম। হাসপাতালে চালু হয়েছে নতুন চক্ষু বিভাগ, যক্ষারোগ সনাক্তের জিন এ·পার্ট মেশিন। আল্ট্রাসনোগ্রাফিকে পুরোদমে সচল করা হয়েছে।

এছাড়াও ডিজিটাল এ·রে মেশিন আনায়নের কার্যক্রম চলমান। হাসপাতালে নিশ্চিত করা হয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতায়ন। জরুরি বিভাগ, অন্তর্বিভাগ এবং পোস্ট অপারেটিভ রুমের জন্য ৩ টি আইপিএস চলমান। এছাড়াও অপারেশন রুমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর মেশিন সচল রয়েছে। বেড়েছে হাসপাতালের রাজস্ব আয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ছিলো ৪ লক্ষ ৯২ হাজার ২৩ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয় দাঁড়ায় ৯ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৬৫ টাকা। বর্তমানে ২০২০-২১ অর্থবছরে এই আয় ১৮ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫১৮ টাকা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল এমপি মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। পূর্বের গাইনী কনসালটেন্টসহ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিসিন, শিশুরোগ এবং এনাস্থেসিয়া কনসালটেন্ট যুগোপযোগী সেবা নিশ্চিত করছেন। যোগ হয়েছে একটি নতুন এমব্যুলেন্স এছাড়াও ইউএইচএফপিও এর কার্যক্রম দ্রুততর করার জন্য একটি জিপ কার প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে ৫ তলা ফাউন্ডেশনসহ ৩১ শয্যার তিনতলা ভবনের নির্মানকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে হাসপাতালের মসজিদ।

পূর্বের জরাজীর্ণ মসজিদ এবং ওযুখানা সংস্কার করা হয়েছে। ইমাম এবং মুয়াজ্জিনের জন্য আলাদা রুম নির্মাণ এবং মসজিদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সর্বোপরি, হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নের প্যারামিটারসমূহ পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হাসপাতাল র‌্যাংকিং এ নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নতি হয়েছে। এমনকি একাধিকবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে যা প্রশংসার দাবিদার।