হাওরে ধানের দারুণ ফলন, ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ

২০১৭ সালের বন্যায় সকল ধান তলিয়ে যাওয়ার পর থেকেই হাওরের কৃষকদের দুশ্চিন্তা ও ভয়ে দিন কাটলেও এবছরের ফলনে মনে স্বস্তি এসেছে তাদের। আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় বিগত ৩-৪ বছরের চেয়ে এবছর হয়েছে বাম্পার ফলন। তবে ধান বিক্রি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু না হলেও ধানের বাম্পার ফলনে হাওরে এবারের ঈদের দিগুণ খুশির বার্তা নিয়ে এলো।

ছেলে মেয়ে মা বাবা সবার জন্য কিনছেন ঈদের নতুন জামা, যাচ্ছেন শহরের বড়-ছোট শপিংমল ও দোকানগুলোতে।

সরেজমিনে, সুনামগঞ্জের দেখার হাওর ও খরচার হাওর এবং শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, হাওরে ধান কাটা প্রায় শেষ যা রয়েছে তা দুই-একদিনে কেটে ফেলবেন তারা, এদিকে হাওরে হাওরে এখন চলছে ধান শুকানোর কাজ। অন্যদিকে ঘরের পুরুষেরা হাওরে থাকলেও অনেক বছর আনন্দের ভাগাভাগিতে ও কৃষানীরা যাচ্ছেন কেনাকাটায়, সন্তানদের নতুন জামা কিনে দেওয়ায় ও ঈদের বাজার করতে পরিবার বা গ্রামের দুই থেকে তিনজন মহিলা একত্রিত হয়ে যাচ্ছে কেনাকাটায়। অন্যদিকে এবছর সরকার ১০৮০ টাকা মণ বোরো ধানের দাম নির্ধারণ করলেও কৃষকরা বলছে পাইকারি এবছর বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকায়, সবকিছু ঠিক থাকলে এবছর আনন্দ ও ফূর্তিতেই কাটবে হাওরের ঈদ।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের খরচার হাওরে ১০ কেয়ার জমিতে বোরো ধান করেছেন কৃষক শাহ ফজলুল হক, তিনি বলেন, এ বছর আমরার ধান গত বছর অখলতের থকি বেশি ভালা অইছে, আবহাওয়া ঠিক আছিল, বৃষ্টি কম অইছে আল্লাহ দিলে আমি ধান পাইছি ১০০ মণ৷

তিনি বলেন, গেল কয়েকবছর ধরিতো ছেলে মেয়েরারের বালা কিচ্ছু দিতে পারছি এইবার সবার লাগি কাপড় কিনছে আমার বাচ্চার মায়, সবাইরে নিয়া আমরা খুশিতে ঈদ করমু।

হাওরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কিশোর উসমান আলী জানায়, তার ঈদের কেনাকাটা শেষ, এবছর নতুন শার্ট প্যান্ট জুতা সবই কিনা হয়েছে তার, অপেক্ষা ঈদের সকালের।

সে বলে, এইবার আমরার ধান ভালা অইছে আব্বায় টাকা দিসেন গত বছর খালি শার্ট দিসলা এবছর আমারে সবতা দিসোইন নতুন কিনিয়া।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের দেখার হাওরের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ধান বিক্রি শুরু হইছে না ভালা করি, ৮ কেয়ার জমিত ধান করছিলাম ৮০ মণের মতো ধান পাইছি, আমরা সত্যিকারের খুশি অইমু ধান বেছতে পারলে তবুও এতো বছর পরে নিজের কষ্টের ফসল ভালা অইছে এইটাই আনন্দ, নতুন ধানের চাল দিয়া পিঠা খাওয়া অইবো এরপরে ছেলে মেয়েরারে এইবার ঈদের কাপড় দিতে পারছি সবকিছুর লাগি আল্লাহ কাছে শুকরিয়া।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন কাপড়ের দোকান ও শপিংমলগুলোতে তুলনামূলক অন্যান্য পেশার ক্রেতারা থাকলেও এবছর হাওরপাড়ের বাসিন্দারাও রয়েছে সাথে। বড় বড় দোকানপাট থেকে ফুটপাতের দোকান সব জায়গায় কম বেশি ভীড় রয়েছে।

সদরের হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ বেশি দামি জিনিস কিনার সামর্থ নাই, তবে আমরা আমাদের মতো করে ছোট ছোট দোকানগুলা থকি বাজার কররাম। দাম বেশি চায় অনেক দোকানি দরদাম করিয়া লওয়া লাগে।

তিনি আরও বলেন, এবছর আমরা খুশি কারণ আমরার ধান খুব ভালা অইছে, ইলান যদি সব বছর অইতো তাইলে আমরার চিন্তা আর আতংক ছাড়া থাকতাম।

শহরের সুরমা মার্কেটে রনি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী রণি তালুকদার বলেন, এবছর কাস্টমার কম আছেন তবে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর এলাকা থকি মানুষ আইরো পছন্দমতো কিনরো কাপড়, তবে লকডাউন থাকায় আমরার ব্যবসা মান্দা ইতা না থাকলে আমরা বেচাবিকিও ভালা অইতো।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জের একমাত্র ফসল বোরো ধান কাটা শেষ। এবছর আবহাওয়া ও পরিবেশ এবং কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শের ফলে আমরা সকল ধান বন্যার আগেই ভালোভাবেই কাটতে পেরেছি, তাই বলা যায় এবছর হাওরে ঈদের আনন্দ থাকবে।