পঞ্চগড়ে সোনালী আঁশের রুপালী পাট খড়ি শুকাতে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২১

লিহাজ উদ্দিন,পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের পাটখড়ি শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষীরা। এক সময় বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই উত্তরের এ জনপদে পাটের ব্যাপক আবাদ ও উৎপাদন হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে পঞ্চগড়ের সমতল ভুমিতে চা চাষ আর আবাদি জমিতে পাথর উত্তোলনের কারনে ততোটা পাট চাষ না হলেও একেবারে হাল ছাড়েননি জেলার কৃষকরা। জমি থেকে পাট গাছ কেটে জাগ দেয়া,পানিতে পঁচানোর কিছুদিন পর শুরু হয় আঁশ ছড়ানোর কাজ।

আঁশ ছড়ানোর পর তা পানিতে ধুইয়ে রোদে শুকালেই তা সোনালী আঁশ এ পরিনত হয়। সোনালী আঁশ ছড়ানোর পর আঁশ এর ভিতরে যে রুপালী কাঠিটা থাকে সেটাকেই বলে পাট খড়ি। আঁশ ছড়ানোর পর কাঠি গুলোকে আঠি বেঁধে পুকুর পাড়ে, জমির আইলে, রাস্তার ধারে, খোলা মাঠে,বাড়ির আঙিনায় সারি সারি করে শুকাতে দেয় কৃষকরা। পাট খড়ি শুকিয়ে গেলে তা সংগ্রহ করে নিদিষ্ট জায়গায় সংরক্ষণ করেন তারা। এই পাট খড়ি কৃষকরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন। গ্রামের গৃহীনীদের চুলা জ্বালানোর প্রধান হাতিয়ার এই পাট খড়ি। যা দিয়ে অতি সহজে চুলা জ্বালানো যায়।

এ ছাড়া ঘরের বেড়া, ক্ষেতের বেড়া, বাড়ির চারপাশের বেড়া, পানের বরজে ছাউনি হিসাবে পাটখড়ির ব্যবহার সর্বাধিক। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাটখড়ি পার্টিক্যাল বোর্ড তৈরি কারখানাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে রাস্তাঘাট, জমির আইল,পুকুর পাড় সব জায়গায় পাট খড়ি শুকাতে ব্যস্ত কৃষক। জ্বালানির প্রধান এই উপাদানকে ভালো করে শুকিয়ে নিতে সকাল থেকে বিকাল অবধি পাট খড়ি নাড়াচাড়া করেই সময় পার করছেন পঞ্চগড়ের পাট চাষীরা।

জেলার সদর উপজেলার বজরা পাড়া গ্রামের পাট চাষী মনছুর জানান, আমি এবছর ৩বিঘা পাট আবাদ করেছি। পাট ভালো হয়েছে, আশা করছি নিজের সারা বছরের জন্য সিনজা(পাটখড়ি) রেখে আরো কিছু বিক্রি করতে পারব।

আটোয়ারী উপজেলার বর্ষালুপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, পাইকাররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে পাটখড়ি ক্রয় করে শহরে নিয়ে যায়। মাঝারি সাইজের একেকটা আঠি ৩০-৪০টাকায় বিক্রি হয়। লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক নাজিম বলেন, আকাশে প্রচুর রোদ আছে, পাটখড়ি ভালোভাবে শুকানো যাবে।

গোয়াল পাড়ার খড়ি ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, আমরা গ্রাম থেকে পাটখড়ির আঠি কিনে এনে পরিষ্কার করার পর আঠি গুলো ভালো ভাবে বাঁধি। তারপর সে গুলো বাজারে বিক্রি করি। প্রতি ৫০-৭০টাকায় বিক্রি করি। অনেকে আবার শহরের বাসায় বাসায় বিক্রয় করে। জেলার কৃষি অফিসের তথ্য মতে এবার জেলায় ৮হাজার ২শ ৮৫হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৪২হাজার ২শ৫৩মেট্রিকটন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাটের দামও ভালো। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাট খড়ি গুলো শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারলে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবে এবং সোনালী আঁশের রুপালী পাটখড়ি কৃষককে নতুন আলো দেখাবে।