কক্সবাজারে দুদিনে পাহাড় ধস ও ঢলে ২০ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২১

কক্সবাজার জেলায় ভারিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। অতিবর্ষণে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে জেলায় মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। বুধবার পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ৬ জন ও ঢলে পানিতে তলিয়ে গিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে মঙ্গলবার আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ২০ জনের মৃত্যু হলো। এর আগে বুধবার (২৮ জুলাই) ভোরে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় টেকনাফের হ্নীলায় একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন-টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পাহাড়ি গ্রাম ভিলেজার পাড়া এলাকার সৈয়দ আলমের ছেলে আব্দু শুক্কুর (১৬), মোহাম্মদ জুবাইর (১২), আবদুর রহিম (৫), মেয়ে কহিনুর আক্তার (৯) ও জয়নবা আক্তার (৭)।

হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মো. আলি জানান, রাত ২টার দিকে উপজেলারর হ্নীলা ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়ার সৈয়দ আলমের বাড়িতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সৈয়দ আলমের ৫ সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

এদিকে বুধবার বেলা ১২টার দিকে ঈদগাঁও উপজেলায় ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে দুই ভাইসহ তিনজন নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। এরপর বিকাল ৫টার দিকে দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন- ঈদগাঁওয়ের দরগাহপাড়া এলাকার মোহাম্মদ শাহাজাহানের দুই ছেলে মোহাম্মদ ফারুক (২৬) ও দেলোয়ার হোসেন (১৫) এবং আবছার কামালের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ (১৪)।

ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ ছৈয়দ আলম জানান, টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে দুপুরে মাছ ধরতে যায় ওই তিনজন। তখন স্রোতের টানে তারা তলিয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চালায় এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। তারা এসে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

এছাড়াও মঙ্গলবার পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তিনজনের লাশ একদিন পর বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃতরা হলেন- রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধইল্যাঘোনা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে আলী আকবর (২৫) একই ইউনিয়নের মালিয়ারকুল এলাকার মো. ইসলামের ছেলে মো. রুবেল (২২) ও উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চোরাখোলা এলাকার মৃত আলী আহমদের ছেলে আবদুর রহমান (৪৫)।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, নিহতের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লেবার। তারা মঙ্গলবার কাজ শেষে ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে মাছকারিয়া নামের একটি খাল পার হতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল বলে জেনেছি। বুধবার ৩টার দিকে পৃথক স্থান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জেনেছি। তবে তাদের মধ্যে রুবেলের লাশ এখনো পর্যন্ত না পাওয়ার কথা জানিয়েছে তার পরিবার।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকার আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মতো বুধবারও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার ১২টা হতে বুধবার ১২টা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকালও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলসমূহে পাহাড় ও ভূমি ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে পানিতে ডুবে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাইকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহযোগিতা ও বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ১৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত জেলার ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তাদের সেখানে খাবার সরবারহ করা হচ্ছে।